পাকিস্তানে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের মধ্যেই শনিবার সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী বিল সিনেটে উত্থাপন হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সিনেটে তোলা হয়। আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ২৬ পৃষ্ঠার বিলটি উপস্থাপন করেন। বিলটি পাস হলে ‘সংবিধান (২৭তম সংশোধনী) আইন, ২০২৫’নামে পরিচিত হবে।
সিনেটে উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে সংবিধানে
বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল
কোর্ট’
নামে নতুন একটি আদালত গঠন, যা কেবল সংবিধানসংক্রান্ত মামলা দেখবে। বর্তমানে সুপ্রিম
কোর্ট ও উচ্চ আদালতে যেসব মামলায় সংবিধান বিষয়ে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, সেগুলো ভবিষ্যতে
এই নতুন আদালতে স্থানান্তরিত হবে। বিল অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায়
পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি সামরিক নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় রদবদলের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলুপ্ত
হবে সিজেসিএসসি পদ
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, জয়েন্ট চিফস
অব স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলে পদটি বিলুপ্ত হবে।
এরপর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে না। সেনাপ্রধানই প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে
দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন বিল অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল
স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ করবেন।
সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘সশস্ত্র
বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’।
প্রস্তাবিত বিলে সেখানে কিছু নতুন ধারা যোগ করা হচ্ছে, যেখানে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে
ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্টকে
আজীবন গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে অব্যাহতি
বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ২৪৮ অনুচ্ছেদে
সংশোধন এনে দেশের প্রেসিডেন্টকে আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার-বিচার থেকে অব্যাহতি
দেওয়া হবে। তবে গভর্নরদের ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা থাকবে শুধু তাদের দায়িত্ব পালনকালে। বর্তমানে
প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর দুজনই শুধু মেয়াদকালে এমন সুরক্ষা পান। এ ছাড়া বিলটিতে প্রাদেশিক
মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী সংসদের মোট
সদস্যসংখ্যার ১১ শতাংশ পর্যন্ত মন্ত্রী রাখা যায়, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ
করা হয়েছে।
‘সংবিধানের
ওপর সরাসরি আঘাত’
বিরোধী দলগুলো এই বিলকে ‘সংবিধানের ওপর
সরাসরি আঘাত’ বলে অভিযোগ করছে। তাদের দাবি, সরকারের এই উদ্যোগে
কোনো আলোচনা বা ঐকমত্য তৈরি করা হয়নি। বিরোধীদের একাধিক নেতা সিনেটে বিলটি উপস্থাপনের
সময় তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অধিবেশন বর্জন করেন।
মজলিস-ই-ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের সিনেটর ও
পিটিআই–মনোনীত বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস
প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এত বড় সংশোধনী এত তাড়াহুড়া করে আনা হচ্ছে কেন? ‘ক্ষমতাবানদের
ইচ্ছায় করা এ সংশোধনীর নাটক আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। যারা চরম দারিদ্র্যে বসবাস করছেন
তাদের জীবনের উন্নতির জন্য কোনো সংশোধনী আনা হয়েছে কী’- প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রভাব
পড়বে ক্ষমতার ভারসাম্যে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিলটি পাস হলে
পাকিস্তানের বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও সামরিক কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে
বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নতুন সাংবিধানিক আদালত গঠন এবং রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির
প্রস্তাব ভবিষ্যতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাব ফেলবে। বিলটি এখন সিনেটের স্থায়ী
কমিটিতে পাঠানো হবে। কমিটির পর্যালোচনা শেষে ভোটের জন্য পুনরায় সিনেটে আনা হবে। তবে
বিরোধী দলগুলো এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে এই সংশোধনী প্রস্তাবের
বিরোধিতা করবে। সূত্র: দ্য ডন
AMDADUL HOQUE BHUIA