পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে আহ্বায়ক বদিরুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীর কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে কমিটিতে তাঁদের রাখা হয়নি।
সম্প্রতি টাকা ফেরত চাওয়ার একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই অডিওতে শোনা যায়, এক কর্মী বদিরুজ্জামানকে টাকা ফেরত দিতে বলছেন, জবাবে তিনি টাকা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন। কথোপকথনে ‘সুদসহ টাকা ফেরত’ প্রসঙ্গও উঠে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক বদিরুজ্জামান জুয়েল ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঘোষিত কমিটিতে তাঁদের নাম না থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের শ্রমিক দল কর্মী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁকে সভাপতি বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বদিরুজ্জামান তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। একইভাবে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের আরও দুই নেতার কাছ থেকেও প্রায় ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
আরেক অভিযোগকারী মাসুদ হাওলাদার জানান, সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগের আশ্বাসে তিনি ৪৭ হাজার টাকা দিয়েছেন, কিন্তু পরে কমিটিতে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। অপরদিকে সাকিল মাহামুদ নামের এক যুবদল কর্মী দাবি করেছেন, যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং দলীয় কর্মসূচির খরচের অজুহাতে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, নতুন কমিটি ঘোষণার পর তাঁরা বদিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে কিছু অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বদিরুজ্জামান জুয়েল জানান, “জেলা পর্যায়ের দলীয় কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের যাতায়াতের জন্য লঞ্চ ভাড়া দিতে কিছু টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল। এখন সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আমাকে রাজনৈতিকভাবে অপমান করার চেষ্টা চলছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও জেলা শ্রমিক দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত ঘোষণা করেনি।
Mahfuzur Rahman