ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই তালিকাটি ভিত্তিহীন এবং সেখানে উল্লেখিত অধিকাংশ চুক্তি আদৌ অস্তিত্বই নেই।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তালিকাটি ঘুরছে, তা কোনো একজন ব্যক্তি প্রচার করেছেন এবং একজন উপদেষ্টা সেটি রিটুইট করেছেন। সেই তালিকায় যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই ভুল। ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি আগে থেকেই বাতিল হয়েছে, বাকিগুলোর কিছু এখনো কার্যকর অবস্থায় আছে কিংবা অন্য নামে চলছে।”
গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তাঁর যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে দাবি করেন যে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং আরও কিছু পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ত্রিপুরা–চট্টগ্রাম রেলসংযোগ, অভয়পুর–আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ বা আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর নামে কোনো প্রকল্পই বাস্তবে নেই। তবে আশুগঞ্জ–সরাইল–ধারখার সড়ক প্রকল্পের একটি প্যাকেজ (ধারখার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর) বাতিল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা বা কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প নামে কোনো প্রকল্প নেই। ফেনী নদীর পানির বিষয়ে ২০১৯ সালের সমঝোতা স্মারক এবং কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন সম্পর্কিত ২০২২ সালের চুক্তি দুটোই এখনো বহাল আছে।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত ২০১৮ সালের চুক্তিটিও বহাল রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “বন্দর ব্যবহার, পানি বণ্টন বা রেলসংযোগ—এসব প্রকল্পের কোনো বাতিল আদেশ জারি হয়নি।”
তৌহিদ হোসেন আরও জানান, ফারাক্কা বাঁধসংক্রান্ত কোনো আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাবের বিষয় মন্ত্রণালয় জানে না। সিলেট–শিলচর সংযোগ বা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ নিয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা) সংক্রান্ত প্রকল্পে ভারতের ঋণচুক্তির অর্থায়ন বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এছাড়া আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি পুনর্বিবেচনা হাইকোর্টের নির্দেশে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে, এরপর নবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি।
সবশেষে তিনি জানান, কেবল ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগবোট সরবরাহ সংক্রান্ত একটি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
Mahfuzur Rahman