ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শুধু প্রচার নয়, ধর্মীয় নেতাদের ‘উঠে দাঁড়াতে’ বলল মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 29, 2025 ইং
কুয়ালালামপুরে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত ছবির ক্যাপশন: কুয়ালালামপুরে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
ad728
আরব নিউজ জানিয়েছে, 'সংঘাত নিরসনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা' শীর্ষক ধর্মীয় নেতাদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী সকল প্রধান ধর্মের প্রতিনিধিদের একত্রিত করা হয়।

এতে মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বক্তারা সহিংসতা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা, ধর্মীয় কূটনীতি এবং গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা হামলার ওপর বিশেষ অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেন।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের প্রতিনিধিত্বকারী আল-ইসা উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, 'এই শীর্ষ সম্মেলন ধর্মীয় নেতাদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বের সামনে দাঁড় করাতে এসেছে। মূল্যবোধগুলো ঘোষিত হয়েছে এবং এগুলো বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।'


তিনি বলেন, 'আজ গাজা উপত্যকায় যা ঘটছে — গণহত্যা এবং হৃদয়বিদারক দুর্ভিক্ষ, যা সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যক্ষ করেছে — তা মানবাধিকারের নীতির ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির। জাতিসংঘের সার্বজনীন সনদ জারির পর থেকে, আমাদের বিশ্ব কখনো (গাজার পরিস্থিতির মতো) এমন কিছু দেখেনি। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, এটি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সন্দেহ জাগায়।'

আরব নিউজ জানিয়েছে, আল-ইসা সম্মেলনে ধর্মীয় নেতাদের কেবল 'প্রচার'-এর ওপর মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাননি, বরং শান্তি গঠনে সক্রিয় হওয়ার এবং তাদের অনুসারীদের মানবিক মর্যাদার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের দিকে পরিচালিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, 'প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে শিশুরা মারা যাচ্ছে, ঘরবাড়ি এবং মানুষ বোমা হামলার শিকার হচ্ছে... এই পৃথিবীতে কী ঘটছে? আমাদের বিশ্বাস এবং নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানো বিবেকের কণ্ঠস্বর কোথায়? আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের তাদের মতামতে আরও দৃঢ় হতে হবে।'

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধে কমপক্ষে ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, কেননা আহত হয়ে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের অভাবে অনেক মানুষ মারা গেছেন।

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গাজার বেশিরভাগ অবকাঠামো ধ্বংস এবং চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারের কৌশলের কারণে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্মেলনে ৫৪টি দেশের ১৫০ জন বিদেশি ধর্মীয় প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : AMDADUL HOQUE BHUIA

কমেন্ট বক্স