
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি কমার
সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক রাতেই বিলীন হয়েছে বিজিবি একটি ক্যাম্পসহ
বেশি কিছু বাড়িঘর। উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আতারপাড়া
অলঅকার উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনে উদয়নগর বিজিবি
ক্যাম্পসহ বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও কিছু বিস্তীর্ণ আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি
ও জমি হারিয়ে অনেকেই নি:স্ব হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক দিনে শতশত বিঘা জমি নদী গর্ভে চলে
গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আতারপাড়া, বাংলাবাজারসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে নদীর ভয়ংকর ভাঙনে
উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা উদয়নগর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিওপির
দুই-তৃতীয়াংশ পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশও যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে
বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই রাতে বিজিবি ক্যাম্পের পাশাপাশি সেখানে প্রায় এক কিলোমিটার
বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে নদী ভাঙনে ২০-২৫টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। হারিয়ে গেছে শতশত বিঘা ফসলি
জমি। ফলে আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বিজিপি ক্যাম্প ভেঙে যাওয়ায়
চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস
আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে পদ্মা-গড়াই নদীর অন্তত ১৭টি স্থানে ভাঙনের ঝুঁকিতে
রয়েছেবলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নদীর পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উদয়নগর বিওপি রক্ষা করতে জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙনের তীব্রতায় তা কাজে আসেনি। ভাঙন কবলিত
এলাকাকে রক্ষায় নতুন করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি নুরুজ্জামান
বলেন, বিজিবির ক্যাম্প ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বাড়ি-ঘর
হারিয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ভাঙ্গন প্রোতিরোধের পাশাপাশি
অসহায় এসব মানুষকে পুনর্বাসন করা প্রয়োজন।
এদিকে, শুক্রবার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর বিওপি ক্যাম্প
পরিদর্শন ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সংবাদ সম্মেলন করেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ভাঙনের আশঙ্কা
আগে থেকেই ছিল। কয়েক দিন আগে সেখান থেকে বিজিবির সব সদস্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাশের
চর চিলমারী বিওপিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। উদয়নগর বিওপি নদীতে
বিলীন হওয়ায় চর চিলমারী বিওপি থেকে উদয়নগর এলাকায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
বিজিবি ক্যাম্প ভেঙে যাওয়ার কারণে সীমান্ত সুরক্ষায় কোন সমস্যা হবে না। নদীপথে টহল
জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার পোলাডাংগা
বিওপি এখন পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র দুই মিটার দূরে এবং শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর
বিওপি মাত্র ১৪ মিটার দূরে অবস্থান করছে। ঝুঁকির কারণে এসব বিওপির মালামাল, অস্ত্র-গোলাবারুদ,
যানবাহন ও সিগন্যাল সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী ডিএমসি বিওপিতে স্থানান্তর করা
হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব বিওপি রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম
চলছে।
পাউবোর কুষ্টিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর
রহমান বলেন, সকালে উদয়নগর বিওপিসহ ভাঙন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখা হয়েছে। পানি কমায়
ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ভাঙনের আশংকায় শুকনো মৌসুমে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে বিওপি’টি রক্ষার
চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন,
নদী ভাঙন রোধ করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেয়ার জন্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়াও ভাঙন রোধে স্থায়ী
ও অস্থায়ী দু’ধরনের পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরী করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে
পাঠানো হবে। মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।