ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের পর প্রথম একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানালো শিবির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2025 ইং
রায়ের বাজারে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শিবির নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন- ফাইল ছবি ছবির ক্যাপশন: রায়ের বাজারে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শিবির নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন- ফাইল ছবি
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের নেতারা। সূত্রমতে, স্বাধীনতার পর এটাই প্রথমবার কোনো শিবির-সমর্থিত নেতাকর্মী প্রকাশ্যে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন।

এর আগে ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতারা ’২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। তারা জানান, ১৯৭১ এবং ২০২৪—দুই প্রজন্মের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়ম বলেন, “যেভাবে জুলাইয়ে কাজ করেছি, সেভাবেই ঢাবি থেকে গণতান্ত্রিক বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দিতে চাই। শহীদরা আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। তাদের স্বপ্ন নতুনভাবে জাগ্রত করতে ডাকসু কাজ করবে।”

ডাকসুর জিএস এহসান ফরহাদ বলেন, “এ বিজয় ছাত্রশিবিরের নয়, শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্যই আমাদের প্রধান সংগ্রাম।”

এ সময় হিজাব ইস্যুতে ভারতীয় মিডিয়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ডাকসুর নেতারা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

রায়েরবাজার বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভয়াবহ একটি অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রহরে পাকিস্তানি সেনারা তাদের দোসরদের সহায়তায় দেশের অগ্রগামী বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৪ ডিসেম্বর রায়েরবাজারের নিচু জলাভূমি থেকে বহু শহীদ বুদ্ধিজীবীর মরদেহ উদ্ধার হয়।

স্বাধীনতার পর এ স্থানটি “বধ্যভূমি” হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে শহীদদের স্মরণে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়, যার স্থাপত্যশিল্পী ছিলেন ফরিদউদ্দিন আহমেদ ও জামিলুর রহমান। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধ আজ জাতির শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম কেন্দ্র।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Mahfuzur Rahman

কমেন্ট বক্স