ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শিশুদের সুরক্ষায় সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালীর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে: ইউনিসেফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
ফাইল ছবি ছবির ক্যাপশন: ফাইল ছবি
ad728

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, মেয়েশিশু ও ছেলেশিশুরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। যেসব জায়গায় তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা।

শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পাঠানো বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস ও যৌন সহিংসতার ঘটনার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনা দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সংস্থাটি বলেছে, অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিরোধব্যবস্থা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতি মোকাবিলা করা জরুরি। নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মস্থল, পাড়া-মহল্লা ও যত্নসেবা কেন্দ্রগুলোর জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ইউনিসেফের ভাষ্য, সম্প্রদায় নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সংস্থাটি শিশু, নারী, পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সহায়তা ও রেফারেল সেবা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের কাজ বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীদের ট্রমা, পরিবারের কষ্ট এবং তাদের প্রতি অসম্মান আরও বাড়িয়ে দেয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং কোনো ধরনের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসানের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষে সংস্থাটি বলেছে, প্রতিটি শিশুর সর্বত্র সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে কমিউনিটিতে, স্কুলে, ঘরে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : AMDADUL HOQUE BHUIA

কমেন্ট বক্স